মোল্লা ফরিদ আহমেদ। বর্তমানে খুলনা বিএনপি’র রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত নাম। চাঁদাবাজি, রেলের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ, স্কুলের সীমানা প্রাচীর ও ডাক্তার বাড়ি ভেঙে দোকান নির্মাণ করায় তাকে এক মাসের আটকাদেশ চেয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। এরপর থেকে খুলনা সদর থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তিনি বাড়িতে থাকছেন না বলে প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরাও তিনি কোথায় রয়েছেন অবগত নন, বলে জানান।
ঘাট এলাকার শ্রমিক ও বাসিন্দারা জানান, অভ্যুত্থানের পর এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ফরিদ মোল্লা। রেলওয়ের বিভিন্ন জমিতে ৪টি মার্কেট তৈরি করেন। এছাড়া অসংখ্যা দোকান-পাট, পুকুর ফাঁকা জায়গা দখল করেন। বিএনপি নেতাদের জমিও তার দখল থেকে নিস্তার পায়নি। হুমকি, মারধরের শিকার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির শিকার হন। তার ভয়ে প্রতিবাদ তো দূরের কথা মুখ খোলার সাহস পায়নি ঘাট এলাকার মানুষ।
তারা জানান, জমি দখল ও মানুষকে নির্যাতনের কাজে ফরিদ মোল্লার সহযোগী ছিলেন ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুবেল জমাদ্দার, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ক্যাপ মিলন, স্বেচ্ছাসেবক দলের শিশু বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান মিঠু, সাইফুল রহমান জাহিদ ও রবিউল ইসলাম রবি। তারাও এলাকায় আতংকের নাম।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অভিযোগ করলেও ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত ১৭ আগস্ট বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাকে এক মাস আটক রাখতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু এখনও আমরা কোনো উত্তর পাইনি।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা সরকারের বিভিন্ন উইংয়ের কাছে মতামত চেয়েছি। পুলিশের আবেদনের প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।”
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ নাদিম সারওয়ার বলেন, ওই এলাকার বর্তমান চিত্র কি জানতে চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পুুলিশের আটকাদেশ ও লুটপাট নিয়ে সংবাদ প্র্রকাশের পর ঘাট ও রেলওয়ে এলাকায় স্বস্তি দেখা দিয়েছে। ফরিদ মোল্লা ও তার অনুসারীদের এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রেলওয়ে হাসপাতার রোডের বাড়িতে গিয়ে ফরিদ মোল্লাকে পাওয়া যায়নি।
ফরিদ মোল্লার ছেলে তানভীর আহমেদ বাঁধন বলেন,“গত কয়েকদিন বাবা বাড়িতে থাকেন না। কোথায় রয়েছেন তার জানা নেই।”
গত কয়েকদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফরিদ মোল্লার নিয়মিত তৎপরতা দেখা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সেখানেও তার উপস্থিতি ছিল না। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম